বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় পবিত্র শহর মদিনায় ফের ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী। তবে আকাশে থাকা অবস্থাতেই সেই ড্রোন আটকে দিয়ে ধ্বংস করেছে সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট।
সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, বুধবার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং মদিনার দিকে ধেয়ে আসা ৫টি ড্রোন আটকে দিয়ে ধ্বংস করেছে সৌদি জোট। হুথি বিদ্রোহীরা এসব ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল।”
পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে ২৮টি অবতীর্ণ হয়েছে মদিনায়। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.)-এর তৈরি মসজিদ ‘মসজিদে নববি’ মদিনায় অবস্থিত। নবীর রওজার (সমাধি) অবস্থানও মদিনাতেই।
সাম্প্রতিক সময়ে এর আগে মদিনাকে লক্ষ্য করে আরও দু’বার ড্রোন হামলা করেছিল হুথিরা। সেসব ড্রোনও আটকে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।
সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বাহিনীর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর হুথি যোদ্ধারা পুরো উত্তর ইয়েমেনে ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি পালিয়ে যান। আবদারাব্বুহ মনসুর হাদিকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি- আমিরাত সামরিক জোট। তবে ২০১৯ সাল থেকে এই জোট থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আমিরাত এবং ২০২৫ পুরোপুরি এ জোট থেকে সরে দাড়ায়। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আছে আর দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।
সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক, ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধনেও সক্ষম হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং এ সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি গত মাসে দখল করেছে হুথিরা। এর ফলে বিদেশে সৌদির তেল রপ্তানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভয়েস/আআ